
সোহরাব হাসান

অতীতের কিছু হঠকারী সিদ্ধান্ত ও উগ্র কথাবার্তার জন্যই এনসিপি অনেকটা একঘরে হয়ে যায় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শুরুতে তারা জনমনে আশা জাগালেও সেটি ধরে রাখতে পারেনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতায় থাকতে অনেক নেতা-নেত্রী জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম নিয়ত তার গুণকীর্তনে ব্যস্ত থাকে, দলীয় নেতা-কর্মীরাও তাকে মহামানবের আসনে বসান। কিন্তু ক্ষমতার বাইরে থেকে যারা বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন, তিনিই প্রকৃত জনপ্রিয় নেতা বা নেত্রীর শিরোপা পান।

যদি আমরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যত বিশ্লেষণ করি, দেখব বিরোধী দল বিএনপির নেতা হিসেবে তিনি ম্যাজিক দেখিয়েছেন ২০০১ সালের নির্বাচনে। বিএনপি জোটের আশাতীত সাফল্যের পেছনে তার সাংগঠনিক কৌশল ম্যাজিক বা জাদুর মতো কাজ করেছে।

কখনো কখনো জীবন্ত মানুষের চেয়ে ইটপাথরের ভবন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সেটাই যদি না হবে, তাহলে না প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয় আক্রমণের শিকার হবে কেন? কেন এসব ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হবে?

রাজনৈতিক মহলে যেই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো, তারেক রহমান কি শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই দেশে আসছেন না? না, এর পেছনে ভূরাজনৈতিক কোনো বিষয় জড়িত আছে?

গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছ থেকে কী জবাব বের করতে চান, তার ওপরই জরিপের ফলাফল নির্ভর করে। আইআরআইয়ের আগের জরিপটি মতলবি হলে পরেরটি বিশুদ্ধ হওয়ার কারণ নেই।

জামায়াতে ইসলামীর আমির এক বোমা ফাটিয়েছেন। চট্টগ্রাম প্যারেড মাঠে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে নির্বাচনের জেনোসাইড হবে।

এক সময়ের মজলুম জনগোষ্ঠীর জালিম হয়ে যাওয়ার বহু উদাহরণ আছে। সাতচল্লিশের আগে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানেরা ছিল সংখ্যালঘু মজলুম। দেশ বিভাগের পর পাকিস্তানে সেই মুসলমানেরাই জুলুমবাজ হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলো যেসব দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছে, সেসব নিয়ে তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনাও অব্যাহত রেখেছে। অনেকে বলেন, সরকারকে চাপে রাখতে এটি করা হয়েছে। এখন বিএনপিসহ অন্যান্য দলও যদি তাদের দাবি নিয়ে একইভাবে রাস্তায় নামে তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে?